আক্রান্তের ৯৩তম দিন
.....
গত ২৪ ঘণ্টা দেশে মারা গেছেন আরও ৪২ জন। এর মধ্যে ৩৩ জন পুরুষ ও ৯ জন নারী। এ নিয়ে মোট প্রাণহানির সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়াল ৯৩০ জনে।
গত ২৪ ঘণ্টায় (রোববার সকাল ৮টা থেকে সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) দেশে নতুন করে ২ হাজার ৭৩৫ জনের দেহে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে মোট শনাক্ত হলেন ৬৮ হাজার ৫০৪ জন।
গত ২৪ ঘণ্টায় সুস্থ হয়েছেন ৬৫৭ জন। এ পর্যন্ত মোট সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন ১৪ হাজার ৫৬০ জন।
সোমবার (৮ জুন) দুপুরে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) সংক্রান্ত নিয়মিত অনলাইন ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা।
ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে মোট ৫২টি ল্যাব থেকে গত ২৪ ঘন্টায় মোট ১৩ হাজার ৯৬১ টি নমুনা সংগ্রহ হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ৯৪৪ টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।
সব মিলিয়ে এ পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে ৪ লাখ ১০ হাজার ৯৩১ টি।
নমুনা বিবেচনায় গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ২১ দশমিক ১৩ শতাংশ। শনাক্ত বিবেচনায় সুস্থতার হার ২১ দশমিক ২৫ শতাংশ এবং মৃত্যুর হার ১ দশমিক ৩৬ শতাংশ।
মৃত্যু বিবেচনায় পুরুষের হার ৭৭ শতাংশ এবং নারী ২৩ শতাংশ। শনাক্তের বিবেচনায় পুরুষের হার ৭১ শতাংশ এবং নারী ২৯ শতাংশ।
রোববার (৭ জুন) শনাক্ত হয় ২ হাজার ৭৪৩ ও মারা যায় ৪২ জন।
গত ২ ফেব্রুয়ারি থেকে দেশে করোনাভাইরাস শনাক্তের পরীক্ষা শুরু করে। ৮ মার্চ দেশে প্রথম রোগী শনাক্ত হয়। ১৮ মার্চ প্রথম কোনও করোনা রোগী মারা যায়।
দেশে গত ২৮ এপ্রিল করোনা রোগী শনাক্ত হয় ৫৪৯ জন। এর পর ধারবাহিকভাবে বাড়তে থাকেশনাক্তের সংখ্যা। চলতি মাসের ১ জুন ২,৩৮১, ২ জুন ২,৯১১, ৩ জুন ২৬৯৫, ৪ জুন ২৪২৩, ৫ জুন ২,৮২৮, ৬ জুন ২,৬৩৫ ও ৭ জুন ২,৭৪৩ জন শনাক্ত হয়।
দিন দিন করোনা রোগী শনাক্ত ও মৃতের সংখ্যা বাড়ায় নড়েচড়ে বসে সরকার। ভাইরাসটি যেন ছড়িয়ে পড়তে না পারে সেজন্য ২৬ মার্চ থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় সব সরকারি-বেসরকারি অফিস। কয়েক দফা বাড়ানো হয় সেই ছুটি। এ ছুটি আরেক দফা বাড়িয়ে ৩০ মে পর্যন্ত করা হয়।
বিশ্বে মহামারি করোনাভাইরাসে ইতোমধ্যে চার লাখ দুই হাজারেরও বেশি মানুষ মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ লাখের বেশি। এ ছাড়া, সুস্থও হয়েছেন প্রায় সাড়ে ৩১ লাখ মানুষ।
সোমবার (৮ জুন) জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির করোনাভাইরাস রিসোর্স সেন্টার এ তথ্য জানিয়েছে।
জনস হপকিনস ইউনিভার্সিটির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বব্যাপী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন ৭০ লাখ ৯ হাজার ৬৫ জন এবং মারা গেছেন ৪ লাখ ২ হাজার ৭৩০ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৯২০ জন।
করোনাভাইরাসে সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত ও মৃত্যু যুক্তরাষ্ট্রে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১৯ লাখ ৪২ হাজার ৩৬৩ জন এবং মারা গেছেন ১ লাখ ১০ হাজার ৫১৪ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬ হাজার ৩৬৭ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত রয়েছে দক্ষিণ আমেরিকার দেশ ব্রাজিলে। দেশটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৬ লাখ ৯১ হাজার ৭৫৮ জন, মারা গেছেন ৩৬ হাজার ৪৫৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ৮৩ হাজার ৯৫২ জন।
যুক্তরাষ্ট্রের পর এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা গেছেন যুক্তরাজ্যে। দেশটিতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজার ৬২৫ জন মারা গেছেন। আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৮৭ হাজার ৬২১ জন। সুস্থ হয়েছেন ১ হাজার ২৩৯ জন।


করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বাড়ছে রাশিয়াতেও। সেখানে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৭৩ জন এবং মারা গেছেন ৫ হাজার ৮৫১ জন। এ ছাড়া, সুস্থ হয়েছেন ২ লাখ ২৬ হাজার ২৭২ জন।
ইউরোপের দেশ স্পেনে এখন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৪১ হাজার ৫৫০ জন, মারা গেছেন ২৭ হাজার ১৩৬ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৫০ হাজার ৩৭৬ জন। ইতালিতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৩৪ হাজার ৯৯৮ জন, মারা গেছেন ৩৩ হাজার ৮৯৯ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬৫ হাজার ৮৩৭ জন। ফ্রান্সে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৯১ হাজার ১০২ জন, মারা গেছেন ২৯ হাজার ১৫৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭০ হাজার ৯৬১ জন। জার্মানিতে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৫০ জন, মারা গেছেন ৮ হাজার ৬৮৫ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৬৯ হাজার ২২৪ জন।
মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরানে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭১ হাজার ৭৮৯ জন, মারা গেছেন ৮ হাজার ২৮১ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৪ হাজার ৩৪৯ জন। তুরস্কে আক্রান্ত হয়েছেন ১ লাখ ৭০ হাজার ১৩২ জন, মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৯২ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ৩৭ হাজার ৯৬৯ জন।
প্রতিবেশী দেশ ভারতে আক্রান্ত হয়েছেন ২ লাখ ৫৭ হাজার ৪৮৬ জন, মারা গেছেন ৭ হাজার ২০৭ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ১ লাখ ২৩ হাজার ৮৪৮ জন।
ভাইরাসটির সংক্রমণস্থল চীনে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৪ হাজার ১৯১ জন, মারা গেছেন ৪ হাজার ৬৩৮ জন এবং সুস্থ হয়েছেন ৭৯ হাজার ৪৩৪ জন।